আত্মশুদ্ধি বা তাজকিয়াতুন নাফস: অন্তরকে আলোকিত করার ৫টি কার্যকর উপায়

প্রবর্তনা
By -
0


আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতায় আমরা আমাদের শরীরের যত্ন নিলেও মনের বা আত্মার যত্ন নিতে ভুলে যাই। ফলে দেখা দেয় মানসিক অশান্তি, হতাশা এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতা। ইসলামের পরিভাষায় এই আত্মার পরিচ্ছন্নতাকেই বলা হয় 'তাজকিয়াতুন নাফস' বা আত্মশুদ্ধি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "সে-ই সফলকাম হলো, যে নিজের আত্মাকে শুদ্ধ করল।" (সূরা আশ-শামস: ৯)

আজকের প্রবন্ধে আমরা জানব কীভাবে ইসলামের শাশ্বত শিক্ষার আলোকে আমরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারি।

১. নিয়ত সংশোধন ও ইখলাস (আন্তরিকতা)

আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপ হলো নিজের নিয়তকে শুদ্ধ করা। আপনি যা কিছুই করছেন, তা যেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়। লোকদেখানো ইবাদত বা 'রিয়া' অন্তরকে কলুষিত করে। প্রতিটি কাজের শুরুতে নিজেকে প্রশ্ন করুন—"আমি কি এটি আল্লাহর জন্য করছি?" যখন কাজের উদ্দেশ্য মহান হয়, তখন আত্মাও শুদ্ধ হতে শুরু করে।

২. নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার

মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার পাপ করা হৃদয়ে কালো দাগ ফেলে দেয়। এই কালো দাগ মোছার একমাত্র উপায় হলো ইস্তিগফার। প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ার অভ্যাস করুন। অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে অন্তরের বোঝা হালকা হয় এবং প্রশান্তি নেমে আসে।

৩. মুহাসাবা বা আত্ম-পর্যালোচনা

প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অন্তত ৫ মিনিট নিজের সারাদিনের কাজের হিসাব নিন। আজ কতটুকু ভালো কাজ করেছেন আর কোথায় ভুল করেছেন—তা নিয়ে ভাবুন। এই মুহাসাবা বা আত্ম-পর্যালোচনা আপনাকে পরবর্তী দিনে আরও ভালো মানুষ হতে উদ্বুদ্ধ করবে। আহলুল বাইয়েতের শিক্ষায় আত্ম-পর্যালোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৪. কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির

অন্তরকে পলিশ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আল্লাহর জিকির। আল্লাহ বলেন: "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।" (সূরা আর-রাদ: ২৮) প্রতিদিন অর্থসহ কুরআন পাঠ করুন এবং সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পাঠের মাধ্যমে জিহ্বা সজীব রাখুন। এটি অন্তর থেকে দুনিয়াবি মোহ দূর করতে সাহায্য করে।

৫. সৎ সঙ্গ বা নেককারদের সাহচর্য

মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে। তাই যাদের সান্নিধ্যে গেলে আল্লাহর কথা মনে পড়ে এবং আখেরাতের চিন্তা জাগে, তাদের সাথে সময় কাটান। আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাহচর্য আপনার রূহকে উজ্জীবিত করবে এবং সত্যের পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করবে।

আত্মশুদ্ধি কোনো একদিনের কাজ নয়, এটি সারা জীবনের সাধনা। আমরা যদি আমাদের কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন—সর্বত্রই স্রষ্টাকে উপস্থিত মনে করি (ইহসান), তবেই আমাদের আত্মা কলুষমুক্ত হবে। "শাশ্বত সত্যের নব প্রবর্তন" তখনই সম্ভব যখন আমাদের অন্তর হবে পবিত্র।

আল্লাহ আমাদের সকলকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন এবং আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করার তাওফিক দিন। আমীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default